আফসান চৌধুরীর সাথে আলাপঃ "জনতার মুক্তিযুদ্ধ, জনযুদ্ধ"
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামী অধ্যায়। এক সাগর রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের এই সংগ্রাম যেমনি ছিলে একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, তেমনি এটি ছিল সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক মুক্তির এক সুদীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার পরিণতি। ইতিহাস বিচারের নানা ধারা ও বয়ান থাকে। সমাজের বিভিন্ন অংশ ও শ্রেণি ইতিহাসকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে। এদেশের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ও তার আশেপাশে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে ও রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে গিয়ে একে কতিপয় ব্যক্তির বীরত্বগাঁথায় পরিণত করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তিতে পরিণত করার চেতনা ব্যবসার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ফ্যাসিবাদীদের চেতনা ব্যবসার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নাম করে মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করার এবং নানারকম বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় নানা ধরনের দলীয় বয়ান ও বিতর্কে, মুক্তিযুদ্ধের আসল অংশগ্রহণকারী ও আত্মত্যাগকারী জনতার সংগ্রামের ইতিহাস আড়ালে চলে যায়।
সেই আড়াল করে দেওয়া জনতার সংগ্রামের ইতিহাসকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে চাই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃতপক্ষে জনতার মুক্তিযুদ্ধ, বা জনযুদ্ধ। একাত্তরের এই জনযুদ্ধে কৃষকের ভূমিকা কী ছিল? শ্রমিকের ভূমিকা কী ছিল? নারীর ভূমিকা কী ছিল? আদিবাসীর ভূমিকা কী ছিল? দেশের অভ্যন্তরে একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ জনতার অংশগ্রহণ ও ভূমিকা কেমন ছিল? গ্রামের সেই জনতা, যারা জীবনের পরোয়া না করে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, কিংবা যারা বুক আগলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করেছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কতটা জানি?
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবনের জন্য গবেষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গবেষণা ও বিশ্লেষণ আমাদের অতীতকে নতুনভাবে দেখতে এবং নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়তা করবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, আগামী ২৮ মার্চ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় আলোচনাটি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আপনাদের সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।