দেশজুড়ে চলছে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ আর শিশু ধর্ষণের মহামারি। "সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা", "গলাকাটা অবস্থায় ইকোপার্কের জঙ্গলে হাঁটা শিশুটি মারা গেছে", "খুলনায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ", "ময়মনসিংহে শিশুকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার", "টিকটকে প্রেম, রাজবাড়ীতে দেখা করতে এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী", "গোবিন্দগঞ্জে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে শিক্ষিকাকে হত্যা", "গাইবান্ধায় উপবৃত্তির প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার", "পাবনায় দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ", "ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ৫ বছরের তাবাসসুমকে হত্যা, স্কুলের সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম", "ধর্ষণের বিচার চাওয়া কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা"! - গত সপ্তাহে প্রতিদিনই এরকম বীভৎস শিরোনাম পত্রপত্রিকার পাতায় পাতায় ঠাই পেয়েছে! হঠাৎ করেই দেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়ে গেলো? নাকি, শিশু ধর্ষণ, হত্যা চেষ্টা, হত্যার মত ভয়াবহ মাত্রার ঘটনাগুলো বেড়েছে? চলছে ধর্ষণের মহামারি! কিন্তু, ধর্ষণের এই মহামারি তো হুট করে শুরু হয়নি, এমন হেডলাইন তো কেবল গত সপ্তাহেই নয়, তার আগের সপ্তাহে ছিল, আগের মাসে, তার আগে মাসে, আগের বছরে, তারও আগের বছরেও ছিল। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউণ্ডেশনের তথ্য মতে গত দুই মাসে সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬৭ টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ২৩ টি, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৮ টি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৯ টি, যার মধ্যে ১৮০ টি ছিল দলবদ্ধ ধর্ষণ। ধর্ষণচেষ্টা ছিল আরো ২৩০টি। ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে ৩৬ জনকে। ধর্ষণের শিকার ৭৪৯ জনের মধ্যে ৭২ জনের বয়স ছিল ৬ বছরের কম, ১৩৯ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে! এই তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে ১০ টি জাতীয় দৈনিক, কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কাছে আসা অভিযোগের তথ্য – থেকে। প্রকৃত সংখ্যা এরও বহুগুণ বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষক থাকে পুলিশ-আইন-আদালতের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধর্ষণের কারণ কী? আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না? দেশের আইনে কি কোনো গলদ আছে? আইনে ধর্ষকের সাজা কি কম? সাজা বাড়ানোই কি সমাধান? থানা-পুলিশ নারীবান্ধব, নাকি ধর্ষক বান্ধব? বিচারব্যবস্থার সমস্যা কোন জায়গায়? কেন ধর্ষকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন? আইনের শাসন থাকলেই, মানে ধর্ষককে ঠিকভাবে পুলিশ পাকড়াও করলে বা তাদের সাজা নিশ্চিত করতে পারলেই কি ধর্ষণ নির্মূল হয়ে যেত? তারচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন ধর্ষণ করে? ধর্ষকের মনস্তত্বে আসলে কী থাকে? ধর্ষণের রাজনীতি কী? সংস্কৃতি কী? এসব নিয়েই আমাদের এবারের গণতন্ত্র আলাপ, “ধর্ষণের রাজনীতি ও সংস্কৃতি”। ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আমাদের এই গণতন্ত্র আলাপে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেনঃ ড. ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ড. লুবনা ফেরুদৌসী শিক্ষক, হেলথ এন্ড সোসাইটি, ইউনিভার্সিটি অব হাল ক্যান্সার গবেষক, হাল-ইয়র্ক মেডিক্যাল স্কুল সঞ্চালনা করবেনঃ সায়েমা খাতুন লেখক ও নৃবিজ্ঞানী সদস্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক