২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণতন্ত্রের পথে জুলাই জনতার মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল - রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় পার করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দেয়। এক সাথে দুই নির্বাচন, একদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী গণভোট, অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল পরে তার ভোটের অধিকার ফিরে পেয়ে বেশ উৎসবের পরিবেশেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট দিতে গিয়েছেন। মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পেরেছে সরকার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে - বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় লাভ করেছে, এরই মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারও গঠন করেছে। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব পালন শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটে ৬৮% ভোট পেয়ে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ দুই তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অথচ, শপথ গ্রহণের দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে- সংসদের প্রধান দলগুলো বিপরীতমুখি অবস্থান নেয়। জামাত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা দেয়ার পরে শপথ নেয়ার কথা বলেছে। এর বাইইরে, আরেকটা অংশ এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদেই সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করার দাবি তুলেছেন। ফলে, তিন ধরণের অবস্থানে বিভক্ত হয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে অনিশ্চয়তার সাথে সাথে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার। জুলাই সনদের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো কি আদৌ হবে? বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, রাষ্ট্র সংস্কারের ভাগ্যও তাদের উপর অনেকখানি নির্ভর করছে। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবনায় নোট অব ডিসেন্ট তারা দিয়ে রেখেছে, যেগুলোতে গণভোটের রায় এসেছে সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে। বিএনপি কী করবে? গণভোটের গণরায় মানবে? নাকি, বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতে বৈধতার প্রশ্ন তুলে, নিজেদের নোট অব ডিসেন্টকেই অধিক গুরুত্ব দিবে? অন্তর্বর্তী কালীন সরকার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে, যে আইনগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের জন্যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম অধিবেশনেই এই অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে বিল আকারে তুলতে হবে, ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন নিতে হবে, তাহলেই এই অধ্যাদেশগুলো টিকে যাবে। কিন্তু, সে পথে বিএনপি হাঁটবে, নাকি অধিকাংশ অধ্যাদেশই অন্ধকারে হারিয়ে যাবে? এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংবাদ মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে এসেছেন, প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির প্রতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচনা জারি রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে পদচ্যুত করার দাবিও করেছেন অনেকে। এরকম বিভিন্ন প্রশ্ন, তর্ক-বিতর্ককে নিয়েই আমাদের এবারের গণতন্ত্র আলাপ। শিরোনামঃ "নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশঃ রাষ্ট্র সংস্কার কোন পথে?" আলোচক হিসেবে থাকবেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়জ হাসনাত কাইয়ূম এবং ভাষাবিদ ও ভাষাশিক্ষক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্য আহমেদ শামীম। সঞ্চালনা করবেন, এনপিএ'র কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্য নাজমুল আহমেদ। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।