গণতন্ত্র-আলাপ ১৮ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীঃ দ্রোহ, স্মরণ ও বিস্মরণ
২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ের কোটা আন্দোলন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়ে উঠেছিল, তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নারীদের। অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। অথচ এক বছর পরে আজ প্রশ্ন উঠছে, "জুলাইয়ের নারীরা কোথায় হারিয়ে গেল?" রাষ্ট্র গঠনে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সেই নারীদের অংশগ্রহণ এত কমে গেল কীভাবে? সবাই ঘরে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, নিজ নিজ কাজে ফিরেছেন, ফিরতে বাধ্য হয়েছেন? জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের এখন নানাভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে - এমন অভিযোগও করেছেন অনেকে।
পুরো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি ফেজে কিছু ট্রিগার পয়েন্ট আছে, কিছু আইকনিক ছবি বা মুহুর্ত আছে। ১৬ জুলাইয়ে আবু সাঈদের দু হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে গুলি খাওয়াটা যদি হয় এই পুরা গণঅভ্যুত্থানের মূল ট্রিগার পয়েন্ট, যেটি সারাদেশে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদেরই শুধু রাস্তায় নামায়নি, জনতাকেও এই আন্দোলনে যুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছে; তেমনি ১৫ তারিখ রাত থেকে যে সারাদেশে শিক্ষার্থীরা এভাবে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসগুলো বিতাড়িত করে দিলো, ১৬ তারিখে এভাবে রাজপথে পুলিশের (ও হেলমেট লীগের) মুখোমুখি হলো, সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, ঢাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে ওভাবে মার খাওয়ার সেই ছবিগুলো। রক্তাক্ত মুখের চশমা পরা, চিকন একটা লাঠি হাতে একটু ঝুঁকে থাকা সেই মেয়েটার ছবি, কিংবা একটি আহত মেয়েকে দুহাতে তুলে ছুটে চলা শিক্ষার্থীর ছবি, - ১৫ জুলাইয়ের এই ছবিগুলোই আসলে ১৬ জুলাইকে তৈরি করেছে। আবার সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় - হল ভ্যাকেন্ট করে দিয়ে, ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজত নিয়ে (সেখানেও একজন নারী সমন্বয়ককে ডিবি ধরেছিলো), এবং সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় করার সময়টায় যখন আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত, তখন নারী শিক্ষার্থীরা গ্রেফতার আটকাতে যেভাবে পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়েছিলো, বা পুলিশের গাড়িতে তোলার মুহুর্তে এক ছাত্রকে যেভাবে কয়েকজন ছাত্রী টেনে হিচড়ে ছিনিয়ে নিয়েছিলো, সেই ছবি বা ভিডিওগুলোও সারাদেশে দারুণ সাহস দিয়েছিলো, সেই সাহসেই আবার ছাত্র জনতা রাস্তায় নামা শুরু করে (পরে শিক্ষক নেটওয়ার্কের দ্রোহযাত্রায় মানুষের ঢল নামে)। ফলে, গণঅভ্যুত্থানের এই ট্রিগার পয়েন্টগুলোতে আমাদের নারী শিক্ষার্থীরা যখন ভীষণ সাহসী ভূমিকা রেখেছিলো, আজকে কি সেগুলো ভুলে যাওয়া হচ্ছে?
এই প্রসঙ্গেই জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে আমাদের এবারের গণতন্ত্র আলাপ। শিরোনামঃ জুলাইন গণঅভ্যুত্থানে নারীঃ দ্রোহ, স্মরণ ও বিস্মরণ।
আলোচকঃ
শর্মী হোসেন, শিক্ষক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
সীমা দত্ত, সভাপতি, নারীমুক্তি কেন্দ্র
হেমা চাকমা, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফারিহা জামান নিকি, সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি
সঞ্চালকঃ
সায়েমা খাতুন, লেখক ও নৃবিজ্ঞানী