শাসন ব্যবস্থা সরকারের হাতের মুঠোয় থাকা একটি নরম রাবারের ফ্ল্যাক্সিবল বল।
যে কারো বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে হাতের মুঠোতে থাকা সেই বলে নিয়ে আসা হয়।
সরকারের যখন ইচ্ছে হয় তখন সেই আসামীকে আকাশে উড়তে দেয়, আবার যখন ইচ্ছে হয় ঐ বলে পুশ করে সেই আসামীকে বন্ধী করে।
১০ বছরের পুরাতন মামলায় একজন আসামী ১০ বছর পরে গ্রেফতার হয়, ঐ একই মামলায় অন্য ৫ জন আসামী সদর্পে আকাশে উড়াউড়ি করে, যতদিন না সরকারের বিরাগভাজন হয়।
কারো নামে পুরাতন মামলা না থাকলেও তেমন সমস্যা নেই, থানাগুলোতে থাকা শত শত অজ্ঞাতনামা মামলার যেকোনোটাতে যাকে যখন খুশি সেটাতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সেটা না হলেও নতুন মনগড়া মামলা (বিশেষ করে ইয়াবা পকেটে ঢুকিয়ে) দিয়ে বন্ধী করা হয়। আর সবচেয়ে মারাত্মক যে জিনিসটা হয় সেটা সাদা পোষাকধারী সংঘবদ্ধ কোনো দলের হাতে বিচারবহির্ভূত গুম কিংবা অস্ত্র উদ্ধারের নাটকে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গুলি করে হত্যা।
এই নরম রাবারের ফ্ল্যাক্সিবল বলটি যতদিন সরকার ইচ্ছেমতো চাপ দিয়ে হাতের মুঠোতে টাইট করবে আবার ইচ্ছেমতো চাপ কমিয়ে ফুলতে দিবে ততদিন ক্ষমতার এই অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকবে।
তাই এদেশের আইনকে পুরুষের যৌনাঙ্গের সাথে তুলনা করা হয়, যেটা জায়গামতো শীতল থাকে আবার জায়গামতো হয় উত্তেজিত।
অথচ একটি আদর্শ রাষ্ট্রে আইন, শাসন ও বিচার ব্যবস্থা সরকারের হাতের মুঠোয় থাকা নরম রাবারের ফ্ল্যাক্সিবল বল না হয়ে একটি সলিড বল হয়। যেটা সব জায়গায় সমান্তরালে চলে। বোধহয় বাংলাদেশের ইতিহাসের ৫০ বছরে এমনটি কখনোই ছিলো না। কিন্তু আবারো বলতে হয় এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো আমাদের একুশ শতকের প্রজন্ম কিন্তু যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আমরা একমাত্র শেখ হাসিনার আওয়ামিলীগ শাসনামল দেখে বড় হয়েছি। আর অন্য সময়ের সাথে তুলনার সময়ে ছোটবেলায় ভাবসম্প্রসারণ শিখার সময়ে পড়া চরণদ্বয়ের কথা মনে পড়ে, "তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?''
দুপুর ২ টা
ইউআইইউ লাইব্রেরি
বাড্ডা, ঢাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

.jpg&w=3840&q=75)

