বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি অস্বস্তিকর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিদ্যমান: যখন শিক্ষিত, ধর্মনিরপেক্ষ নারীবাদী মহলে তাত্ত্বিক বিতর্ক চলছে এবং সমালোচনামূলক প্রবন্ধ রচিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাদের রাজনৈতিক দলকে শক্তিশালী করছে। আমাদের শিক্ষিত নারীরা তাদের এই সংগঠিত করার শক্তিকে আমলে নেন না বললেই চলে। আমরা নিজেদের কাজ করি, সমাজ পরিবর্তনের কথা বলি মুখে, কিন্তু সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করি না। যেখানে আমাদের প্রয়োজনই অনুভব হয় না, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নারী কর্মীরা তাঁরা যে রাষ্ট্র চান তা নির্মাণে ব্যস্ত। এখানেই আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা। আমরা পরিবর্তন চাই, রাষ্ট্র সংস্কার চাই, নারী উন্নয়ন চাই। কিন্তু যা চাই সবকিছু ব্যক্তিগত পর্যায়ে চাই। তাই আমাদের ব্যক্তিগত জীবন পরিবর্তিত হলেও সমাজ পরিবর্তিত হয় না, নারীবান্ধব সমাজ গড়ে ওঠে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যখন ছিলাম একটা দৃশ্য চোখে পড়তো ছোট ছোট দলে কয়েকজন মেয়ে একসাথে হাঁটছে, কথা বলছে, হয়তো একসাথে মেয়েদের কমনরুমে নামাজ পড়তে যাচ্ছে। নামাজের পর এক সাথে বসে আলাপ করছে। এই দৃশ্যটা স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু একটু মনোযোগ দিলে বোঝা যায়, এই স্বাভাবিক দৃশ্যের ভেতরে একটা অত্যন্ত কার্যকর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া চলছে।
ইসলামী ছাত্রী সংগঠনগুলো গত দুই দশকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের মধ্যে যে ধরনের সাংগঠনিক উপস্থিতি তৈরি করেছে, তা অনেক পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নারী-শাখার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তারা শুধু সদস্যসংখ্যায় এগিয়ে নেই, সংগঠনের গভীরতায়, দৈনন্দিন জীবনে সংগঠনের উপস্থিতিতে এবং কর্মীর প্রতি সংগঠনের দায়বদ্ধতায়ও এগিয়ে। এই বাস্তবতা স্বীকার করতে অনেকের অস্বস্তি হয়। কিন্তু অস্বীকার করলে প্রশ্নটার উত্তর খোঁজা যায় না।
প্রশ্নটা হলো কেন? কীভাবে?
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম সপ্তাহটা একজন মেয়ের জন্য কেমন? নতুন শহর, নতুন হল, চেনা মানুষ নেই। কে কোথায় থাকে, খাওয়া কোথায় পাওয়া যায়, ক্লাস কোন ভবনে, সব নতুন। এই মুহূর্তে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো কেউ একজন যে সাহায্য করবে, পথ দেখাবে, বিপদে পাশে থাকবে।
ইসলামী ছাত্রী সংগঠনের কর্মীরা এই মুহূর্তে সক্রিয় থাকেন। তাঁরা হলে গিয়ে নতুন মেয়েদের সাথে পরিচিত হন, খোঁজ নেন, একসাথে নামাজ পড়তে নিয়ে যান, সমস্যায় পাশে দাঁড়ান। এটা কোনো কৌশলের অংশ কিনা সেটা আলাদা প্রশ্ন কিন্তু এর ফলটা হলো, নতুন মেয়েটার সাথে সংগঠনের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় সে কোনো মতাদর্শ বোঝার আগেই।
সেকুলার বা প্রগতিশীল নারীবাদী দল বা গ্রুপে যুক্ত হওয়ার একটি অলিখিত পূর্বশর্ত আছে। কিছু বিষয়ের জানাশোনা, নির্দিষ্ট ভাষা ও ধারণার সাথে পরিচয় মেয়েটাকে আগে থেকেই কিছুটা "সচেতন" হতে হবে, আগ্রহী হতে হবে। সে নিজে পৌঁছাতে না পারলে সংযোগটা হয় না। যেহেতু এখানে এক ধরনের প্রশিক্ষণ, পাঠ এবং তাত্ত্বিক ভিত্তি যুক্ত হয়ে যায়, তা অনেকের কাছে একটি কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়া বলে মনে হয়। ফলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংগঠিত হয়ে ওঠা আর হয় না।
সংগঠন মেয়েদের কাছে গেছে, মেয়েদের সংগঠনের কাছে আসতে বলেনি। এই একটি পার্থক্যই অনেক কিছু বদলে দেয়।
ধর্ম একটি প্রস্তুত সম্প্রদায়ঃ
একসাথে নামাজ পড়া একটি ধর্মীয় কাজ এটা সবাই জানে। কিন্তু এটা একই সাথে একটি অত্যন্ত কার্যকর সামাজিক কাজও। দিনে পাঁচবার একই জায়গায় একসাথে জমায়েত হওয়া, একই রুটিন ভাগ করে নেওয়া, একই ভাষায় কথা বলা এই প্রক্রিয়ায় যে বন্ধন তৈরি হয় সেটা কৃত্রিম নয়, দৈনন্দিন জীবন থেকে উঠে আসা। এই বন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে সাংগঠনিক কাজ করা অনেক সহজ। বিশ্বাস ইতোমধ্যে আছে, রুটিন ইতোমধ্যে আছে, জমায়েতের জায়গা ইতোমধ্যে আছে। সংগঠনকে নতুন করে এসব তৈরি করতে হচ্ছে না শুধু বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরে সাংগঠনিক কাজটা ঢুকিয়ে দিতে হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতার মতাদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংগঠনগুলো এই প্রস্তুত সম্প্রদায়ের সুযোগ থেকে স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিত। তাদের প্রতিটি জমায়েত আলাদাভাবে তৈরি করতে হয়, প্রতিটি সম্পর্ক আলাদাভাবে গড়তে হয়, প্রতিটি সভার জন্য আলাদা কারণ তৈরি করতে হয়। এটা অসম্ভব নয়, কিন্তু অনেক বেশি শ্রমসাধ্য।
ধর্মীয় পরিচয় একটি প্রস্তুত সম্প্রদায় দেয় যেখান থেকে সংগঠন শুরু হয়। অন্যদের সেই সম্প্রদায় আগে গড়তে হয়, তারপর সংগঠন।
পরিবারের অনুমোদন: একটি বাস্তব বাধাঃ
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের হলের জীবন এখনও নানা বিধিনিষেধে ভরা। রাতে বের হওয়া কঠিন, একা চলাফেরা করা নিরাপদ নয়, পরিবারের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এই বাস্তবতায় একটা মেয়ে কোনো সংগঠনে যোগ দেবে কিনা সেটা নির্ভর করে অনেকটাই এই প্রশ্নের উপর পরিবার মানবে কিনা। ইসলামী ছাত্রী সংগঠনের ক্ষেত্রে এই বাধা অনেকটা কম। ধর্মীয় পরিচয়ের সংগঠনে মেয়েকে পাঠাতে পরিবার সাধারণত আপত্তি করে না বরং অনেক পরিবার স্বস্তি বোধ করে। ফলে মেয়েটার পক্ষে সংগঠনে যুক্ত থাকা সহজ হয়।
প্রগতিশীল সংগঠনে যোগ দিতে গেলে একজন মেয়েকে প্রায়ই পরিবারের সাথে একটা অঘোষিত দ্বন্দ্বে যেতে হয়। এটা অনেক মেয়ের পক্ষে সম্ভব নয় বিশেষত প্রথম বছরে, যখন সে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে "মেয়েরা আসছে না কেন" এই প্রশ্ন করা সৎ নয়।
কর্মীর প্রতি দায়বদ্ধতাঃ
সংগঠন টিকে থাকে তখন, যখন কর্মী অনুভব করে যে সংগঠনও তার পাশে আছে শুধু সে সংগঠনের জন্য কাজ করছে না, সংগঠনও তার জন্য কিছু করছে। ইসলামী ছাত্রী সংগঠনগুলো এই দিকটায় সাধারণত সচেতন। কেউ অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া হয়, পরিবারে সমস্যা হলে পাশে থাকা হয়, পরীক্ষার আগে সাহায্য করা হয়। এই যত্নটা সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হোক বা না হোক কর্মী এটা অনুভব করে এবং সংগঠনের প্রতি আনুগত্য তৈরি হয়। একজন কর্মী যদি অনুভব করে যে সংগঠন শুধু তাকে ব্যবহার করছে কিন্তু তার জন্য কিছু করছে না, তাহলে সে সরে যাবে। এটাই স্বাভাবিক।
সংগঠন টিকে থাকে পারস্পরিক দায়বদ্ধতায়। শুধু আদর্শের ভিত্তিতে মানুষ বেশিদিন সক্রিয় থাকে না।
অনেক প্রগতিশীল সংগঠনে এমন একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে "সচেতনতার মাত্রা" দিয়ে মানুষকে মাপা হয়। কতটুকু পড়েছ, কতটুকু জানো, কতটুকু বুঝেছ এই প্রশ্নগুলো নতুন কাউকে স্বাগত জানানোর বদলে প্রায়ই তাকে অপ্রস্তুত করে দেয়। একজন নতুন মেয়ে যে এখনও সব প্রশ্নের উত্তর জানে না, যে হয়তো কিছু বিষয়ে সংগঠনের মতের সাথে একমত নয় সে কি এই সংগঠনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে? অনেক ক্ষেত্রে করে না। এবং সে চলে যায়। ইসলামী সংগঠনে এই সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে কম। ধর্মীয় পরিচয়টা একটা সাধারণ ভিত্তি তৈরি করে যেখানে মতের পার্থক্য থাকলেও একটা মূল জায়গায় মিল আছে। এই মিলের জায়গা থেকে সম্পর্ক শুরু হয়, মতভেদের আলোচনা পরে আসে।
যা অস্বীকার করা যাবে না: ছাত্রীসংস্থার ভেতর পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক সমস্যাঃ
তবে একটি কথা এখানে স্পষ্টভাবে বলা দরকার। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সীমাবদ্ধতা হলো এই সংগঠন নারীদের নিজেদের জন্য সংগঠিত করে না, এটি একটি বৃহত্তর পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জন্য তাদের সংগঠিত করে। লক্ষ্য স্পষ্টভাবে দলের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতা। এখানে নারীরা হাতিয়ার, প্রতিষ্ঠান সুবিধাভোগী। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা হলো, এই সংগঠনটি মূলত নারীদের নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতায়নের জন্য গঠিত নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'র রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে দলীয় রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করা, যেখানে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে সংগঠনের কৌশলগত সম্পদ বা ‘মোবিলাইজড এজেন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হন, এবং প্রতিষ্ঠানটি এর মাধ্যমে সুবিধাভোগী অবস্থানে থাকে। জামায়াতে ইসলামী'র আদর্শিক কাঠামোর মধ্যে নারীর ভূমিকা সাধারণত পুরুষ আলেমদের শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাখ্যার সীমার মধ্যে সংজ্ঞায়িত হয়, যেখানে নারীর সর্বজনীন ও স্বায়ত্তশাসিত অবস্থানকে সীমিত করা হয়। ফলে নারীদের সংগঠিত শক্তি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রকল্পের দিকে পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে নারীর স্বায়ত্তশাসনের পরিসর সংকুচিত করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা বিষয়ে যে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা গড়ে ওঠে, তা নারীবাদী বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত নারীবাদী চর্চাকে এমনভাবে বিকশিত হতে হবে, যা পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে চিহ্নিত ও অস্বীকার করে এবং নারীর প্রতি অসম্মান ও সহিংসতা উৎপন্নকারী সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামোগুলোকে সমালোচনামূলকভাবে চ্যালেঞ্জ করে। একইসাথে, নারীদের স্বায়ত্তশাসন ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে নারীবাদী রাজনীতি নির্মাণ করা জরুরি।
শেষ কথাঃ
The Diplomat-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রার্থীরা শীর্ষ পদ জয় করেছেন। এই নির্বাচনগুলো ক্ষুদ্র পর্যায়ের সূচক হলেও এগুলো ইসলামী ছাত্র রাজনীতির সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মতাদর্শকে না গ্রহণ করেও বাংলাদেশের নারীবাদী আন্দোলন তাদের সংগঠিত হওয়ার এই অনানুষ্ঠানিক, জীবন সংশ্লিষ্ট কৌশল থেকে শিখতে পারে। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ইসলামী ছাত্রী সংস্থার রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করা নয়। উদ্দেশ্য হলো তাদের সাংগঠনিক পদ্ধতি জানা। যে নারীবাদ পুরুষতন্ত্রকে প্রশ্ন করে, নারীর প্রতি অমর্যাদাকে অস্বীকার করে এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা উৎপন্নকারী কাঠামোগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে সেই নারীবাদ এই সংগঠিত হওয়ার বিভিন্নমাত্রা ব্যবহার করে নারীবাদী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।
যাঁরা ভিন্ন মতের সংগঠন করতে চান, তাঁদের জন্য কিছু সরাসরি প্রশ্ন যা সংগঠিত হওয়ার জন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা রাখি-
আপনার সংগঠন কি নতুন মেয়েদের কাছে যায়, নাকি তাদের আসার অপেক্ষা করে? যদি অপেক্ষা করে, তাহলে যারা নিজে থেকে খুঁজে আসে তারাই আসবে, আর তারা সংখ্যায় সবসময় কম।
আপনার সংগঠনে যোগ দিলে একজন মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে কী পরিবর্তন আসে? সে কি শুধু সভায় যায় এবং স্লোগান দেয়, নাকি সংগঠন তার সাথে থাকে?
নতুন কেউ এলে আপনার সংগঠন কি তাকে স্বাগত জানায়, নাকি পরীক্ষা করে? মতাদর্শের ভার প্রথম দিনেই চাপিয়ে দিলে অনেকে আর দ্বিতীয় দিন আসে না।
আপনার সংগঠনে কি এমন কোনো নিয়মিত কাজ আছে যেটা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে না, মানুষের জন্য? মানুষ সেই সংগঠনে থাকে যে সংগঠন তার জীবনে কাজে লাগে।
ইসলামী ছাত্রী সংগঠন যা করছে তা মূলত মানুষের কাছে যাওয়া, সম্পর্ক তৈরি করা এবং দৈনন্দিন জীবনে উপস্থিত থাকা। এটা কোনো রহস্যময় কৌশল নয়। এটা অর্গানাইজিংয়ের সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে কার্যকর নীতি। প্রশ্ন হলো অন্য মতের, অন্য দলের মেয়েরা কি এই কাজটা করতে রাজি আছেন? মানুষের কাছে গিয়ে, তার কথা শুনে, তার পাশে থেকে রাজনীতি করার আপনাদের আগ্রহ আছে? যদি থাকে বা এই আগ্রহ তৈরি করতে পারেন, অন্যদের মাঝে রাজনৈতিক স্পৃহা ছড়িয়ে দিতে পারেন তবে বাংলাদেশে প্রকৃত নারীবাদী রাজনীতি সম্ভব। আজকে যা আমরা কল্পনা করবো জেনে রাখুন আগামিতে তাই আমাদের বাস্তবতা। আসুন সংগঠিত হই। মানুষ এর পাশে বসে, তাঁর বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়ে, তাঁর ধর্ম থেকে তাকে দূরে ঠেলে না দিয়ে, বরং তাকে আরো ধর্ম চর্চার সুযোগের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্ক মজবুত করি।
এটুকু বুঝলে শুরুটা কঠিন নয়।


